মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Home / চট্টগ্রাম / মধ্যরাতে হালদায় ডিম ছাড়লো মা মাছ

মধ্যরাতে হালদায় ডিম ছাড়লো মা মাছ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে এবার পুরোপুরি ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত  করেছেন হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

তিনি বলেন, ‘বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে হালদায় মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়া শুরু করেছে। নদীর রামদাস মুন্সিরহাট থেকে অঙ্কুরি ঘোনা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বেশ ভালো ডিম সংগ্রহ করছেন জেলেরা। আমি হালদার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম শহর থেকে রওনা দিয়েছি।’

তিনি সাংবাদিককে  বলেন, ‘আমরা এখন নৌকা নিয়ে নদীর মাঝে আছি। প্রায় ৩ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি। আশা করছি মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়া শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার পুরো দিন ডিম সংগ্রহ করা যাবে।’

জেলে আশু বড়ুয়া সাংবাদিককে জানান, ‘আমার ছয়টি নৌকা আছে। প্রত্যেক নৌকা নদীর মাঝে রয়েছে। একেকজন ৩ কেজি করে ডিম পেয়েছেন।’

হাটহাজারী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘মধ্যরাতে বেশ কয়েকজন জেলে হালদার নয়াহাট এলাকা থেকে ৩-৪ কেজি করে ডিম পাওয়ার দাবি করেছেন।’

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ও বুধবার দুপুরে মা মাছ দুইবার নমুনা ডিম ছেড়েছিল। নদীর সার্বিক অবস্থা ভালো থাকায় এবার প্রচুর ডিম সংগ্রহ করার ব্যাপারে আশাবাদী জেলেরা।

বছরের এপ্রিল থেকে জুনের যেকোনো সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি বা জো থাকতে হবে। একই সময়ে নদীর স্থানীয় এবং খাগড়াছড়ি, মানিকছড়িসহ নদীর উজানে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে হবে। ফলে পাহাড়ি ঢল নামবে এবং নদীতে ফেনাসহ পানি প্রবাহিত হবে। ঠিক এই সময়ে পূর্ণ জোয়ার শেষে অথবা পূর্ণ ভাটা শেষে পানি যখন স্থির হয়, তখনই কেবল মা মাছ ডিম ছাড়ে।

হালদা গবেষকরা বলছেন, এ বছরের এপ্রিল মাস শুরু হওয়ার পরে ইতোমধ্যে তিনটি জো চলে গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই মা মাছ ডিম ছাড়েনি। সর্বশেষ ২৪ মে থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণিমার জো। এটা ২৮ মে পর্যন্ত স্থায়ী হবে। আর এর মধ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছেন জেলেরা।

গত এপ্রিল থেকে হালদা পাড়ের প্রায় ৫ শতাধিক জেলে ডিম সংগ্রহের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে জো চলাকালে তারা রাত-দিন নির্ঘুম থেকে ডিম ছাড়ার প্রহর গুনেছেন।

খাগড়াছড়ির জেলার বাটনাতলী পাহাড় হতে নেমে সর্পিল ১০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হালদা নদী মিলেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে। দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই নদীর সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে এটিকে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।

শেয়ার করুন

এটি পড়ে দেখতে পারেন

নেতাকর্মীর সাথে এমপিদের মিলেমিশে কাজ করার তাগিদ

স্থানীয় এমপিদেরকে মহানগর আওয়ামী লীগসহ থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মিলেমিশে কাজ করার …